Summary
বন হচ্ছে লতা, গুলা ও গাছপালায় আচ্ছাদিত একটি এলাকা, যেখানে উঁচু ও কাষ্ঠল বৃক্ষ থাকে। বনবিভিন্ন পশু-পাখি ও পোকামাকড়ের আবাসস্থল, যা পরিবেশকে সুস্থ রাখে। এটি একটি দেশের ২৫% এলাকার জন্য আদর্শ। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক বন ১৭% রয়েছে। বনের সুরক্ষা ও নতুন বন সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এই অধ্যায়ে আমরা প্রাকৃতিক, সামাজিক ও কৃষি বন সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করবো এবং বনের গুরুত্ব বুঝতে পারবো। আমরা কৃষি ও সামাজিক বন এবং প্রাকৃতিক বনগুলোর তুলনা করতে, বাংলাদেশের মানচিত্রে প্রাকৃতিক বন চিহ্নিত করতে, এবং বনভিত্তিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর তালিকা তৈরি করতে পারবো।
এছাড়া, আমরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি ও সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে এবং বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণের উপায় জানতে পারবো। পরিবেশ সুরক্ষায় কৃষি ও সামাজিক বনায়নের অবদান তুলে ধরার জন্য পোস্টার অঙ্কন করা সম্ভব হবে।
লতা, গুলা ও ছোটবড় গাছপালায় আচ্ছাদিত এলাকাকে বন বলা হয়। বনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সেখানে উঁচু ও কাষ্ঠল বৃক্ষ থাকবে। বনে নানারকম পশু-পাখি ও পোকামাকড় বাস করে বনজ পরিবেশ তৈরি করে। বন আমাদের পরিবেশকে আবাস উপযোগী রাখে। কোনো দেশের সমগ্র এলাকার ২৫% প্রাকৃতিক বন থাকাটা আদর্শ অবস্থা। সরকারি হিসাব মতে, বাংলাদেশের ১৭% এলাকায় প্রাকৃতিক বন রয়েছে। বনকে রক্ষা করা ও নতুন বন সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি। এ অধ্যায়ে প্রাকৃতিক বন, সামাজিক বন ও কৃষি বন সৃষ্টি এবং এর পরিচর্যা সম্পর্কে আমরা জানব। তাছাড়া বনের গুরুত্ব সম্পর্কেও আমরা তথ্য জানতে এবং উপলব্ধি করতে পারব।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- কৃষি ও সামাজিক বনের সাথে প্রাকৃতিক বনের তুলনা করতে পারব।
- বাংলাদেশের মানচিত্রে প্রাকৃতিক বন চিহ্নিত করতে এবং ঐ সকল বনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর তালিকা তৈরি করতে পারব।
- কৃষি ও সামাজিক বনায়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়, কৃষি ও সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বসতবাড়ির আঙ্গিনায়, ছাদে, টবে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার উপায় বর্ণনা করতে পারব।
- বসতবাড়ির আঙ্গিনায়, ছাদে, টবে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি ও সামাজিক বনায়নের অবদান তুলে ধরে পোস্টার অঙ্কন করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি ও সামাজিক বনায়নের অবদান উপলদ্ধি করতে পারব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রায়হান সাহেব তার নতুন বাড়িতে গাছ লাগানোর উদ্দেশ্যে বাজার থেকে আম, কাঁঠাল, লেবু, পেঁপে, শরিফা ও সুপারির চারা কিনে আনলেন।

গাছপালায় ঢাকা বিস্তৃত এলাকাকে বন বলা হয়। বনে বড় বড় উদ্ভিদের সংখ্যা বেশি থাকে। এ ছাড়া মাঝারি গাছপালা ও লতা-গুল্মও বনে জন্মে থাকে। হরেক রকমের পশু-পাখি এবং কীটপতঙ্গ বনে বাস করে। এসব গাছপালা ও জীবজন্তু এক সাথে মিলেমিশে বনজ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
বনের প্রকারভেদ
উৎপত্তি অনুসারে বন প্রধানত তিন প্রকার, যথা- ক) প্রাকৃতিক বন খ) সামাজিক বন ও গ) কৃষি বন
প্রাকৃতিক বন
প্রকৃতিতে আপনা-আপনি যে বিস্তৃত বনাঞ্চল সৃষ্টি হয়, তাকে প্রাকৃতিক বন বলে। শত শত বছর ধরে এ বনাঞ্চল গড়ে ওঠে। সুন্দরবন এরকম একটি প্রাকৃতিক বন। খুলনা শহরের দক্ষিণ অঞ্চলে এ বন অবস্থিত। বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর ও মধুপুরের শালবনও প্রাকৃতিক বন। আমাদের দেশের চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ঢাকা, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, সিলেট প্রভৃতি অঞ্চলেও প্রাকৃতিক বন রয়েছে। এসব বনের উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদ হলো- সুন্দরি, শাল, গর্জন, গেওয়া, কেওড়া, বাইন প্রভৃতি। অঞ্চল ভেদে হাতি, বাঘ, হরিণ, বানর, ভালুক, অজগর এবং বিভিন্ন রকম পাখি ও পোকামাকড় এসব বনে বাস করে। এসব বন থেকে মূল্যবান কাঠ পাওয়া যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রাকৃতিক বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিস্তৃতি অনুসারে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক বন তিন প্রকার। এগুলো হলো- পাহাড়ি বন, সমভূমির বন ও উপকূলীয় বন।
| কাজ: ১. সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক বন বলা হয় কেন? ২. শালবন কোথায় অবস্থিত? ৩. প্রাকৃতিক বনের পাঁচটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম লেখ। ৪. প্রাকৃতিক বন আমাদের কী উপকার করে? |
সামাজিক বন
বাড়িঘর, বিদ্যালয়, পুকুরপাড়, রাস্তা ও বাঁধের দুই পাশে আমরা বিভিন্ন রকম গাছপালা রোপণ করে থাকি। এসব উদ্ভিদের বেশিরভাগই ফল জাতীয় হয়। আবার রেইনট্রি, মেহগনি, কড়ই জাতীয় বনজ গাছও লাগানো হয়। এসব গাছপালা আমাদের চারপাশে ছায়াঘন প্রশান্তিময় সবুজ পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ বন বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ থেকে আমাদের রক্ষা করে, আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। মানুষ নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পরিকল্পনা করে যে বন সৃষ্টি করে, তাকে সামাজিক বন বলে। পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ভোলা এবং চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে মানব তৈরি উপকূলীয় বন সৃষ্টি করা হয়েছে। এ বনের প্রধান উদ্ভিদ কেওড়া ও বাইন। বিভিন্ন পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদিও মানুষ বিনোদন ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে গড়ে তোলে। এগুলোও সামাজিক বনের অন্তর্ভুক্ত।
কৃষি বন
আমাদের দেশের অনেক বাড়িতে এবং বাড়ির আঙ্গিনায় বড় গাছপালার সাথে সবজি চাষ করা হয়। ফলের বাগানে ও ফসলি জমির আইল, ক্ষেত-খামারে পৌঁছার পথ, পুকুরের চারপাশ, খাল-সেচনালার পাশে ছোট-বড় গাছ লাগানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাঠ ও উদ্যান ফসলের ক্ষতি করবে না এমন গাছ নির্বাচন করা হয়। এভাবে তৈরি বনকে কৃষি বন বলে।
অর্থাৎ একই জমিতে বহুমুখী ফসল, বৃক্ষ, মাছ ও পশু-পাখির খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে কৃষি বন বলা হয়। কৃষি বনে মাঠ ফসল, তাল, সুপারি, নারিকেল, কলা, আম, কাঁঠাল, ইপিল-ইপিল প্রভৃতি গাছ লাগানো হয়। কৃষি বন অধিক খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ করে।
| কাজ: দলগতভাবে আলোচনা করে নিচের ছকটি পূরণ কর | |||
| প্রাকৃতিক বন | সামাজিক বন | কৃষি বন | |
| কেমন করে সৃষ্টি হয় | |||
| উদ্ভিদের নাম | |||
| প্রাণীর নাম | |||
| উপকারিতা | |||
নতুন শব্দ: প্রাকৃতিক বন, সামাজিক বন, কৃষি বন, আত্মকর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ।
মানচিত্রে বাংলাদেশের বনভূমির অবস্থান ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ কর। বন্ধুর সাথে পর্যবেক্ষণ করে পাহাড়ি বন, গাজীপুর ও মধুপুরের শালবন এবং উপকূলীয় সুন্দরবন শনাক্ত কর। এসব বনকে কেন প্রাকৃতিক বন বলা হয় আলোচনা কর। বাস্তবে বা টেলিভিশনে এসব বন দেখে থাকলে সে সম্পর্কে বলো।
অবস্থান ও বিস্তৃতি অনুসারে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক বন প্রধানত ৩ প্রকার, যথা- পাহাড়ি বন, সমতল ভূমির বন ও উপকূলীয় বন।

পাহাড়ি বন
বাংলাদেশের বনাঞ্চলের মধ্যে পাহাড়ি বনের পরিমাণ সর্বাপেক্ষা বেশি। বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এ বন অবস্থিত। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার প্রাকৃতিক বন পাহাড়ি বন বলে পরিচিত।
এসব পাহাড়ি বনে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, শিলকড়ই, গামার প্রভৃতি বৃক্ষ জন্মে। এসব মূল্যবান বৃক্ষ থেকে উন্নতমানের কাঠ পাওয়া যায়। পাহাড়ি বনে বহু রকমের বাঁশও জন্মায়। এই বনে হাতি, বানর, শূকর, ভালুক, বনমুরগি, হনুমান, অজগর, প্রভৃতি বন্য প্রাণী বাস করে। বিচিত্র ধরনের পাখি ও কীটপতঙ্গও এখানে রয়েছে।
সমতল ভূমির বন
বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লার সমতল এলাকায় যে প্রাকৃতিক বন রয়েছে, তা সমতল ভূমির বন হিসেবে পরিচিত। প্রধান বৃক্ষ শাল। তাই এ বনকে শালবন বলা হয়। শাল বৃক্ষ গজারি নামে পরিচিত।
এ বনে গজারি, ছাড়াও কড়ই, রেইনট্রি, জারুল প্রভৃতি বৃক্ষ জন্মে। নেকড়ে, বানর, সাপ, ঘুঘু, দোয়েল, শালিক প্রভৃতি জীবজন্ত এ বনে বাস করে। মানবসৃষ্ট কারণে সমতল ভূমির প্রাকৃতিক বন দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। বনকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এলাকার জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার। সে কারণে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উপকূলীয় বন
সমুদ্র উপকূলে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা বনকে উপকূলীয় বন বলা হয়। এ ছাড়া পরিকল্পিত উপায়ে সমুদ্র উপকূলে সামাজিক বন গড়ে তোলা হলেও তাকে উপকূলীয় বন বলে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় উপকূলীয় বন অবস্থিত। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীর উপকূলীয় বন সুন্দরবন নামে পরিচিত। প্রতিনিয়ত সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বনও বলা হয়। সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। এ বনের মোট আয়তন ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এ বন পৃথিবীর বৃহত্তম উপকূলীয় প্রাকৃতিক বন। এ বনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য অপরূপ।
এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি। এ ছাড়া পশুর, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতা প্রভৃতি এ বনের উল্লেখযোগ্য বৃক্ষ। এ বনের প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। চিত্রা হরিণ, চিতাবাঘ, বন্য শূকর, বানর, কুমির, ঘড়িয়াল, অজগর এবং নানা প্রজাতির পাখি, কীটপতঙ্গ এ বনে বাস করে। এ বনের বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত কাঠ গৃহনির্মাণ, নিউজপ্রিন্ট তৈরি ও জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিবছর এ বন থেকে প্রচুর পরিমাণ মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়।
কাজ: নিচের অসম্পূর্ণ চিত্রটি দিয়ে দলীয়ভাবে পোস্টার তৈরি কর ও শ্রেণিতে উপস্থাপন কর। ![]() |
নতুন শব্দ: শালবন, উপকূলীয় বন, ম্যানগ্রোভ, নৈসর্গিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি বন।
চিত্রের বনের দৃশ্য পর্যবেক্ষণ কর। সামাজিক বনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বলো। বিদ্যালয়ের চারদিকের বাগানকে কী বলে? মানুষ নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পরিকল্পনা করে যে বন তৈরি করে, তাই সামাজিক বনায়ন। সড়ক ও বাঁধ বন এবং উপকূলীয় মানবসৃষ্ট কেওড়া বন, সামাজিক বনায়নের উদাহরণ। রেইনট্রি, কড়ই, আকাশমণি, মেহগনি সড়ক ও বাঁধের দুই পাশে লাগানো হয়।

| কাজ: নিচের ছকটি দলীয় আলোচনার মাধ্যমে পূরণ কর। | ||
| বিভিন্ন প্রকার সামাজিক বনের নাম | কী কী উদ্ভিদ পাওয়া যায় | কী উপকার করে |
| বসতবাড়ির বন | ||
| বিদ্যালয়ের বন | ||
| সড়ক ও বাঁধ বন | ||
| উপকূলীয় মানবসৃষ্ট বন | ||
সারা দেশের বনজ সম্পদের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এবং পরিবেশ রক্ষায় গ্রামীণ জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে সামাজিক বনায়ন করা হয়।

| কাজ: উপরের চিত্রটি পর্যবেক্ষণ করে দলগতভাবে সামাজিক বনের গুরুত্বের তালিকা তৈরি কর। |
এবার আমরা সামাজিক বনের যেসব গুরুত্বের কথা বলেছি, তার সাথে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নেই।
- সামাজিক বনের গুরুত্ব
- ছায়াঘেরা সুশীতল মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়।
- গ্রামের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির যোগান দেয়।
- কাঠ, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করে।
- গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
- পতিত জমির সঠিক ব্যবহার হয়।
- দারিদ্র্য বিমোচনসহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে।
নতুন শব্দ: মানবসৃষ্ট বন, শিল্পের কাঁচামাল।
কৃষি বনের চিত্রটি পর্যবেক্ষণ কর। দলীয় আলোচনা কর এবং চিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ।
এ রকম একই জমিতে একই সময়ে বা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন গাছ, ফসল ওপশু-পাখি উৎপাদন হচ্ছে কৃষি বনায়ন। কৃষি বন উপযোগী উদ্ভিদের সংখ্যা অসংখ্য। কৃষি বনে সুপারি, তাল, খেজুর, বাবলা, নারিকেল, মেহগনি, ইত্যাদি ফল ও কাঠের গাছ ফসলি জমির আইল বা ফাঁকে ফাঁকে রোপণ করা হয়।

কৃষি বনায়ন পদ্ধতি
আমাদের দেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক। সে তুলনায় কৃষি জমির পরিমাণ খুবই কম। সে কারণে এই জমিতে বহুমুখী ফসল ফলানো এখন সময়ের দাবি। ভূমির প্রকৃতি ও স্থানীয় চাহিদা অনুসারে বিভিন্ন রকম কৃষি বনায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। যেমন:

১। বৃক্ষ ও মাঠ ফসল চাষ পদ্ধতি
কৃষি বনায়নের এ পদ্ধতিতে একই জমিতে মাঠ ফসলের সাথে বৃক্ষের সমন্বিত চাষ করা হয়। এর ফলে ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদন বেশি হয়।
২। বৃক্ষ ও গোখাদ্য চাষ পদ্ধতি
এ পদ্ধতিতে একই জমিতে বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদের সাথে পশুখাদ্যের চাষ করা হয়। এতে একদিকে ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। মাটির ক্ষয় রোধ হয়।

৩। বনজ ও ফলদ বৃক্ষ চাষ পদ্ধতি
এ ধরনের কৃষি বনায়নে বনজ বৃক্ষের সাথে ফলদ বৃক্ষের চাষ করা হয়। এ পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত। এ পদ্ধতিতে জমির বহুমুখী উৎপাদন নিশ্চিত হয়। তাছাড়া জমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়। পশু-পাখি ও কীটপতঙ্গের আবাস সৃষ্টি হয়, পরিবেশ সংরক্ষিত হয়। উদাহরণ: ইপিল-ইপিল, নারিকেল, লিচু গাছের সাথে আনারস।

কাজ: দলগত আলোচনার মাধ্যমে নিচের অসম্পূর্ণ চিত্রটি সম্পন্ন কর। ![]() |
নতুন শব্দ: কৃষি বনায়ন, সমন্বিত চাষ।
কৃষিজ ফসল ও বনজ বৃক্ষ একসাথে চাষ করার পদ্ধতিই হলো কৃষি বনায়ন। এ বনায়নের মাধ্যমে কৃষক ভূমির সঠিক ব্যবহার করতে পারে। ফলে উৎপাদন বেশি হয়। কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। সামাজিক বনায়নে গ্রামীণ জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করে। বাড়ির আঙ্গিনা, প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বাঁধ, নদী ও খাল পাড় প্রভৃতি জায়গায় বনায়ন করা হয়। জনগণের কল্যাণে জনগণ সৃষ্ট এ বনায়ন সামাজিক বনায়ন নামে পরিচিত।

কাজ
| ক) ১ ও ২নং চিত্র দুটি পর্যবেক্ষণ কর। কোনটি কিসের চিত্র তা লেখ? খ) কোন ধরনের বনায়নে ভূমির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়? গ) কোন বনায়নের মাধ্যমে একই জমিতে বারবার বহুমুখী ফসল ফলে? ঘ) কোন বনায়নে জনগণ সরাসরি অংশ নেয়? ঙ) প্রতিষ্ঠান, বাঁধ, সড়ক ও রেল সড়কের বনায়নকে কী বলে? চ) কৃষি বনায়নের কয়েকটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম লেখ। ছ) সামাজিক বনায়নের দুইটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম লেখ। জ) উপকূলীয় অঞ্চল ও পাহাড়ি পতিত জমিতে কী ধরনের বনায়ন হয়? |
কৃষি বনায়ন ও সামাজিক বনায়নের পারস্পরিক সম্পর্ক

১. কৃষি বনায়নের মাধ্যমে একই সাথে ফসল, বৃক্ষ, মাছ ও পশু-পাখির খাদ্য উৎপাদন করা যায়। তবে একই সাথে বৃক্ষ ও ফসল উৎপাদনকে কৃষি বনায়ন বলা হয়। কিন্তু সামাজিক বনায়নের ফলে কেবল কাঠ ও ফল উৎপাদনকারী উদ্ভিদ উৎপাদন করা যায়।
২. সামাজিক বনায়নের ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণিবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়। গ্রামীণ জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন করে থাকে। জনসাধারণের চেষ্টায় সৃষ্টি হয় সামাজিক বন। কৃষি বনায়নে কাঠ ও ফল উৎপাদনকারী উদ্ভিদের পাশাপাশি মাঠ ফসল চাষ করা যায়।
৩. কৃষি বনায়নে একই জমি বারবার ব্যবহার করে পর্যায়ক্রমে শস্য উৎপাদন করা হয়। এর ফলে বেশি ফসল পাওয়া যায়। জমির উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে যায়। সামাজিক বনায়নে একই জমি একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ কম।
৪. কৃষি বনায়নের মাধ্যমে কৃষি খামার, মৎস্য খামার, মৌমাছি চাষ, রেশম চাষ করা যায়। ফলে খাদ্য, বস্ত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ বাড়ে। অপর দিকে সামাজিক বনায়নের ফলে মূল্যবান কাঠ ও নানা রকম ফল পাওয়া যায়।
৫. সড়ক, রাজপথ, বাঁধ ও রেলপথে সামাজিক বনায়ন করা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজারেও সামাজিক বনায়ন করা হয়। ফসলি মাঠ, বাড়ির আঙ্গিনা, পাহাড়ি পতিত জমি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি বনায়ন করা হয়। আজকাল বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক বনেও সামাজিক বনায়ন ও কৃষি বনায়ন করা হচ্ছে। যেমন: মধুপুর ও ভাওয়ালের শালবন।
| কাজ: কৃষি বনায়ন ও সামাজিক বনায়ন নিয়ে দলগতভাবে আলোচনা করে নিচের ছকটি পূরণ কর। | ||
| পার্থক্যের বিষয়ে প্রশ্ন | কৃষি বনায়ন | সামাজিক বনায়ন |
| ১. এ ধরনের বনায়ন কোথায় করা হয়? | ||
| ২. ৫টি উৎপাদিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম লেখ। | ||
| ৩. কাদের অংশগ্রহণের ফলে সৃষ্টি হয়? | ||
| ৪. জমির ব্যবহার কীভাবে করা হয়? | ||
| ৫. সুবিধা কী কী? | ||
| ৬. তুমি কীভাবে অংশগ্রহণ করতে পার? | ||
নতুন শব্দ: উদ্ভিদ ও প্রাণিবান্ধব পরিবেশ, কৃষি খামার।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব বনের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ ভূমিতে বন থাকা অপরিহার্য। আমাদের দেশে বর্তমানে বনের পরিমাণ মোট আয়তনের ১৭ ভাগ। সুতরাং দেশের বনজ সম্পদ বাড়ানোর জন্য কৃষি বন এবং সামাজিক বনের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এবার দেখা যাক এসব বন কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখে।
১. বনের গাছপালা বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন পরিবেশে ছেড়ে দেয়।
ফলে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
২. এসব বনের গাছপালা বাতাসে জলীয়বাষ্প সরবরাহ করে। ফলে পরিবেশ ঠান্ডা থাকে। এ জলীয় বাষ্প মেঘ ও বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে।
৩. আবহাওয়ার চরমভাবাপন্নতা হ্রাস করে। বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. এসব বন মাটিকে উর্বর করে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ রক্ষা করে।
৫. জীবজন্তুর খাদ্য উৎপাদন করে এবং আশ্রয়স্থল হিসাবে কাজ করে।
৬. ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস থেকে পরিবেশ রক্ষা করে।
৭. টর্নেডো, ঝড় জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে জনপদ রক্ষা করে।
৮. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়তা করে।
কাজ: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি ও সামাজিক বনের অবদান সম্পর্কীয় মানচিত্র তৈরি কর। ![]() |
নতুন শব্দ: পরিবেশের ভারসাম্য, চরমভাবাপন্ন, জীববৈচিত্র্য।
বসতবাড়ির চারপাশে নানারকম গাছপালা লাগানো হয়। বাড়ির আঙ্গিনায় বিভিন্নরকম সবজি চাষও করা হয়। এর ফলে বাড়িতে ছায়াঘেরা মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ রকম পরিবেশে দেহ ও মন সুস্থ থাকে। বাগানের বিভিন্ন রকম ফল ও সবজি বাড়ির লোকজনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। অতিরিক্ত উৎপাদিত দ্রব্যাদি পরিবারের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দেয়।

বসতবাড়িতে প্রধানত ফল জাতীয় গাছ যেমন: আম, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারি, পেয়ারা, কুল প্রভৃতি গাছ লাগানো হয়। অনেক বাড়িতে নানা রকম কাঠের গাছ যেমন সেগুন, মেহগনি ইত্যাদি গাছ লাগাতে দেখা যায়। এ ছাড়া বসতবাড়ির আঙ্গিনায় লাউ, শসা, শিম, পুঁইশাক, বেগুন, টমেটো, মরিচ জাতীয় সবজি চাষও করা হয়।
| কাজ: তোমাদের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় যেসব গাছপালা আছে তার তালিকা দলগতভাবে আলোচনা করে উপস্থাপন কর |
বসতবাড়িতে গাছ লাগানোর সময় যেসকল বিষয় লক্ষ রাখতে হবে, তা হলো:
১. বসতবাড়ি হতে দূরে গাছপালা লাগাতে হবে। যাতে গাছের মরা ডাল ও পাতা ঝরে বসতবাড়ির টিনের চালা ও ছাদের ক্ষতি করতে না পারে।
২. বাড়িতে আলো-বাতাস প্রবেশে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
৩. ঝড় তুফানে গাছপালা ভেঙে পড়ে যেন জীবনহানি করতে না পারে।
৪. গাছপালা যেন বসতবাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে মনোরম পরিবেশ তৈরি করে।
বসতবাড়ির বৃক্ষরোপণের বিভিন্ন নিয়মাবলি
- পূর্ব এবং দক্ষিণ দিকে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছ যেমন- পেয়ারা, আতা, শরিফা, মেহেদী, জবা ইত্যাদি গাছ লাগাতে হবে। কারণ দক্ষিণ ও পূর্ব দিক দিয়ে বাড়িতে যাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম দিকে শক্ত ও পাতাঝরা গাছ লাগাতে হবে। যেমন: সুপারি, নারিকেল, শিশু, সেগুন ইত্যাদি। এসব গাছের ডালপালা কম ও শীতকালে পাতা ঝরে যায়। ফলে বাড়িতে পর্যাপ্ত রোদ আসতে পারে।
- বাড়ির উত্তর-পশ্চিম, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে সব রকমের বড় গাছপালা লাগানো যায়। যেমন: আম, কাঁঠাল, জাম, মেহগনি, কড়ই ইত্যাদি। এসব বড় বড় বৃক্ষ কালবৈশাখীর হাত থেকে আমাদের বাড়িঘরকে রক্ষা করে।
- বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে ফাঁকা জায়গা বেশি থাকলে বাঁশ লাগানো যেতে পারে। কারণ গ্রামীণ জীবনে বাঁশের ব্যবহার বেশি হয়। তাছাড়া বাঁশের অর্থনৈতিক গুরুত্বও বেশি।
- এছাড়াও বাড়ির পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করা যায়। ধুন্দল, মেটে আলু, শিম, ঝিঙ্গা, গোলমরিচ ইত্যাদি লতানো উদ্ভিদগুলো মাঝারি উচ্চতার গাছে জন্মানো যায়। তাছাড়া বাড়ির ছায়াযুক্ত স্থানে আদা, হলুদ, মানকচু ইত্যাদি চাষ করা যেতে পারে।

| কাজ: বসতবাড়িতে গাছপালা লাগানোর সময় কী নিয়ম মানতে হয় তা আলোচনা করে লেখ। |
নতুন শব্দ: পাতাঝরা বৃক্ষ, কালবৈশাখী ঝড়।
সব জায়গায় বৃক্ষরোপণের নিয়ম প্রায় একই রকম। বসতবাড়ির আঙ্গিনায় বৃক্ষরোপণের জন্য মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হওয়ার এক মাস আগে গর্ত করতে হবে। গর্তের আকার হবে (৫০ সেমি x ৫০ সেমি X ৫০ সেমি)। গর্তে মাটির সঙ্গে ১০ কেজি গোবর সার, ৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ৫০ গ্রাম এমওপি সার ভালো করে মেশাতে হবে। সার মেশানো মাটি গর্তে কমপক্ষে এক মাস রেখে দিতে হবে। এক মাস পর যখন মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হবে, তখন ভালো নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করতে হবে।
পলিব্যাগে উৎপাদিত চারা রোপণের ধাপগুলো চিত্রে দেখানো হলো

চারা লাগানোর সময় প্রয়োজনীয় সাবধানতা
১. সতর্কতার সাথে পলিব্যাগটি ধরে একটি ধারালো ব্লেড বা ছুরি দিয়ে পলিব্যাগটি কেটে অপসারণ করতে হবে।
২. খেয়াল রাখতে হবে চারার গোড়ার মাটি যেন ভেঙে না পড়ে।
৩. চিত্রের মতো করে চারাটি সাবধানে গর্তে বসিয়ে মাটি দিয়ে চারদিকের ফাঁকা অংশ ভরাট করে দিতে হবে।
৪. লাগানোর সময় চারাটির সবুজ অংশ যাতে মাটিতে ঢেকে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
৫. চারার গোড়ার মাটি একটু উঁচু করে দিতে হবে, যাতে গোড়ায় পানি জমতে না পারে।

চারার গোড়ার আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। শীতকালে মাটির রস ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য চারার গোড়ায় খড়কুটা বিছিয়ে মালচিং করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে বিকেলে নিয়মিত পানি সেচ করতে হবে।
সার প্রয়োগ
চারার বৃদ্ধি ভালো না হলে ৩-৪ মাস পরে সার প্রয়োগ করতে হবে। চারাপ্রতি ৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে। চারার গোড়া থেকে ১২-১৫ সেমি দূরে চারার চারদিকে সরু শক্ত কাঠি দিয়ে ৮-১০টি গর্ত করতে হবে। এ গর্তসমূহে ৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার সমান ভাগ করে দিতে হবে। এভাবে সার প্রয়োগ করাকে ডিবলিং পদ্ধতি বলে। মাটি শুকনো থাকলে সার দেওয়ার পর যথেষ্ট পরিমাণ পানি দিয়ে গাছের গোড়ার মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে। প্রতিবছর বর্ষার শুরুতে একবার এবং বর্ষার শেষে একবার সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। প্রতিবার ইউরিয়া ৭৫ গ্রাম, টিএসপি ৫০ গ্রাম এবং এমওপি ৫০ গ্রাম করে ডিবলিং পদ্ধতিতে চারার গোড়ায় সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের পরের ৩ বছর এভাবে সার প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।
| কাজ: বিদ্যালয়ের বাগানে দলগতভাবে চারা রোপণ কর। |
নতুন শব্দ: মালচিং, ডিবলিং।

বাড়ির ছাদে ও টবে লাগানোর উপযোগী গাছ
লেবু, কমলা, পেয়ারা, বিলিম্বি, কামরাঙ্গা, ডালিম, আম্রপালি, আম প্রভৃতি ফল গাছ। প্রায় সব রকমের ফুল গাছ বাড়ির ছাদে টবে চাষ করা যায়। লাউ, মরিচ, টমেটো, পুঁইশাক, বেগুনসহ বিভিন্ন রকম সবজির চাষ বাড়ির ছাদে টবে করা যায়।
| কাজ: তোমাদের বিদ্যালয়ে কী কী ফল, ফুল ও কাঠ উৎপাদনকারী গাছ রয়েছে? তালিকা কর। |
টবে চাষ পদ্ধতি
গাছ লাগানোর টব বিভিন্ন রকম ও আকারের হয়ে থাকে। তবে লক্ষ রাখতে হবে, গাছের আকার টবের আকারের উপর নির্ভরশীল।
৪৫ সেমি একটি টবের জন্য মাটি তৈরির নিয়ম
টবে চারা লাগানোর পূর্বে ২ ভাগ দোআঁশ মাটি ও ১ ভাগ গোবর সার একসাথে মেশাতে হবে। ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম এমওপি সার ভালো করে মিশিয়ে ১৫ দিন রেখে দিতে হবে। এবার টবের ঠিক মাঝখানে কলম বা চারা রোপণ করতে হবে।

স্থায়ী বেড পদ্ধতি
আমাদের দেশে বাগান করার জন্য বর্তমানে এটি একটি আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ছাদের চারদিকে ২ মিটার প্রস্থের দুই পাশে ৫০ সেমি উঁচু দেয়ালে ১৫ সেমি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে তৈরি করতে হয়। মাঝখানে খালি জায়গার তলায় ৫ সেমি ইটের শুরকির পরে ৫ সেমি গোবর সার দিতে হয়।
এবার ২ ভাগ দোআঁশ মাটি ও ১ ভাগ গোবর সার মিশিয়ে ভরাট করে স্থায়ী বেড তৈরি করা হয়। ছাদ ঢালাই ও দেয়াল গাঁথুনির প্রতিটি ক্ষেত্রে নেট ফিনিশিং দিতে হয়। এতে ছাদের কোনো রকম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
এবার ২ ভাগ দোআঁশ মাটি ও ১ ভাগ গোবর সার মিশিয়ে ভরাট করে স্থায়ী বেড তৈরি করা হয়। ছাদ ঢালাই ও দেয়াল গাঁথুনির প্রতিটি ক্ষেত্রে নেট ফিনিশিং দিতে হয়। এতে ছাদের কোনো রকম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
টব বা ছাদের গাছের পরিচর্যা
১ কেজি পঁচানো খইলের সাথে ৩ লিটার পানি মিশিয়ে মধ্যম তরল তৈরি করতে হবে। ৪৫ সেমি টবের জন্য আধা লিটার, ড্রাম বা স্থায়ী বেডের জন্য ১ লিটার পরিমাণ দিতে হবে। ১৫ দিন পরপর নিয়মিত এ সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। তরল সার প্রয়োগের ১ ঘণ্টা আগে ও এক ঘণ্টা পরে পানি দিতে হবে।
টবে লাগানো দীর্ঘজীবী গাছে নিয়মিত সেচ ও সার প্রয়োগ করতে হবে। এমনভাবে পানি দিতে হবে, যাতে টবের মাটিতে সর্বদা রস থাকে। সপ্তাহে দুইবার গাছের গোড়ার মাটি খুঁচিয়ে দিতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাগান
আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ও বাইরে ফুল, ফল ও কাঠের গাছ রোপণ করা হয়। এ বাগানে কৃষ্ণচূড়া, কাঁঠালিচাপা, সোনালু, বাগান বিলাস, জারুল, গন্ধরাজ, জবা, টগরসহ নানা রকম ফুলের গাছ লাগানো হয়। আবার মেহগনি, রেইনট্রি, আম, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারি প্রভৃতি কাঠ ও ফলের গাছ রোপণ করা হয়।
আমাদের দেশে বিশেষ করে শীতকালীন ফুল বাগান খুব সুন্দর হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি ও সৌন্দর্য বর্ধনে এ ধরনের বাগান করা অপরিহার্য।
| কাজ: [দলীয় কাজ] বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে রোপণ করা যায় এরকম পাঁচটি করে স্থায়ী বনজ, ফলদ ও স্থায়ী ফুল উৎপাদনকারী উদ্ভিদের নাম লেখ। কাজ: সকল বিদ্যালয় ফুলবাগান ও গাছপালা ঘেরা মনোরম পরিবেশ থাকা উচিত কেন? তা দলীয় আলোচনা করে পয়েন্ট আকারে পোস্টার কাগজে লেখ। শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন কর। |
নতুন শব্দ: স্থায়ী বেড, দীর্ঘজীবী গাছ।
শূন্যস্থান পূরণ কর
১. আমাদের দেশের প্রাকৃতিক বন ………………………. প্রকার।
২. উপকূলীয় বন থেকে প্রচুর পরিমাণে ………………………. ও ………………………. সংগ্রহ করা হয়।
৩. বসতবাড়ির দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে ………………………. ও ………………………. গাছ লাগানো উচিত।
বাম পাশের সাথে ডান পাশের মিলকরণ
| বাম পাশ | ডান পাশ |
১. জনগণের কল্যাণে জনগণ সৃষ্ট বনায়ন ২. কৃষি বনায়নে বনজ বৃক্ষের সাথে ৩. মরিচ, টমেটো, বেগুন ইত্যাদি ৪. টবে লাগানো দীর্ঘজীবী গাছে | নিয়মিত সেচ ও সার দিতে হয়। সবজির চাষ ছাদের টবে করা যায়। ফলদ বৃক্ষের চাষ করা হয়। সামাজিক বনায়ন নামে পরিচিত। |
সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
১. উপকূলীয় বন কাকে বলে?
২. সামাজিক বনের দুইটি গুরুত্ব লেখ।
৩. বাড়ির ছাদের টবে লাগানো যায় এমন তিনটি গাছের নাম লেখ।
বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. পাহাড়ি বন ও সামাজিক বনের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
২. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনের ভূমিকা আলোচনা কর।
৩. পলিব্যাগের চারা রোপণের পদ্ধতি বর্ণনা কর।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. উপকূলীয় বনের প্রধান বৃক্ষ কোনটি?
ক. গরান
খ. জারুল
গ. গর্জন
ঘ. গেওয়া
২. বাড়ির দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে নিচের কোন গাছ লাগানো হয়?
ক. শরিফা
খ. শিশু
গ. জলপাই
ঘ. সেগুন
৩. নিচের কোনটি সামাজিক বনের বৃক্ষগুচ্ছ?
ক. কড়ই, আকাশমণি, গামার
খ. জারুল, রেইনট্রি, মেহগনি
গ. মেহগনি, আকাশমণি, কড়ই
ঘ. কড়ই, গর্জন, মেহগনি
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ৪ ও ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও
সালমা বেগম নিজ বাড়ির ছাদে ৪৫ সেমি আকারের ২০টি টবে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ও ফুলের চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করেন। তার বাগানে এখন মৌসুমি ফল ও ফুলের সমারোহ।
৪. সালমা বেগমের টবগুলোর জন্য কত কেজি টিএসপি সারের প্রয়োজন?
ক. ১ কেজি
খ. ২ কেজি
গ. ৩ কেজি
ঘ. ৪ কেজি
৫. সালমা বেগমের উদ্যোগটি-
i. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে
ii. পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে
iii. পরিবারের ব্যয় বৃদ্ধি করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও ii
ঘ. i, ii ও , iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. রহিমা বেগম বসতবাড়ির আঙ্গিনায় বৃক্ষরোপণের নিয়মাবলি অনুসরণ করে বাড়ির বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন প্রজাতির যেমন: নারিকেল, শিশু, পেয়ারা, জাম ইত্যাদি গাছ রোপণ করেন। আর এভাবেই নিজ বাগান থেকে পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
ক. বন কাকে বলে?
খ. সামাজিক বনের একটি গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
গ. রহিমা বেগম উদ্দীপকে উল্লিখিত গাছপালা বাড়ির কোন দিকে রোপণ করেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. রহিমা বেগমের উদ্যোগটি কীভাবে তার সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।
২.

ক. পাহাড়ি বন কাকে বলে?
খ. কোন বনকে শালবন বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।
গ. উপরের চিত্রের কোন বনটির ভূমিগত বৈশিষ্ট্য ভিন্নতর? কারণ ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উপরের কোন বনটি সামাজিক বনায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? কারণ বিশ্লেষণ কর।


